0
রাজশাহীঃ সড়ক সংযোগ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী নগরীতে এবার ফ্লাইওভারসহ সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত এগিয়ে চলেছে এ সড়কের নির্মাণ কাজ। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের আলিফ লাম মিম ভাটা থেকে পূর্বে মেহেরচন্ডি মোহনপুর হয়ে নাটোর রোডের রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র পর্যন্ত যাবে এ সড়ক। 



সড়কের ফল গবেষণা কেন্দ্র পয়েন্টে নির্মাণ করা হবে ২০০ মিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভার। রাজশাহীতে এটিই হবে প্রথম ফ্লাইওভার। শুধু ফ্লাইওভারটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি টাকা। শহরের পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে সংযুক্ত করতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। 

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, পরিকল্পিত নগরীর ২৫ শতাংশ সড়ক থাকতে হয়। কিন্তু রাজশাহী শহরে সড়ক রয়েছে ৯ শতাংশের কম। বিষয়টি মাথায় রেখে সড়ক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ৫০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় চার লেনের এ সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সড়ক নির্মাণের জন্য ৪২ দশমিক ৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। 

সড়কটির দুই পাশে ফুটপাথ, সড়কবাতি, ট্রাফিক কাঠামো ও রোড মার্কিংসহ ডিভাইডার থাকবে। থাকবে একটি ফ্লাইওভারও। শুরুতে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সড়কের কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে এখন সেটি আর নেই। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে। 

প্রকল্প পরিচালকের বরাত দিয়ে প্রধান প্রকৌশলী জানান, প্রথম ধাপে আলিফ লাম মিম ভাটা থেকে সড়কের চার কিলোমিটার অংশ নির্মাণ করা হচ্ছে। এ বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। রাস্তার পুরো অংশ জুড়েই রয়েছে অসংখ্য ডোবা-গর্ত। ৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ভরাট কাজ করছে মেসার্স নূর হোসেন এন্টারপ্রাইজ। গত বছরের ডিসেম্বরে শুরু হয় এ কাজ। 

জানা গেছে, এ সড়কটি নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছে এমবিআরই জেভি। এ কাজে ব্যয় হচ্ছে ১৯ কোটি ৫ লাখ। গত অক্টোবরে এ কার্যাদেশ দেয়া হয়। তবে এ প্রকল্পের ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করবে আলাদা প্রতিষ্ঠান। রাস্তার সঙ্গে সঙ্গেই এটি নির্মাণ করা হবে। এরই মধ্যে এ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এখন চলছে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের কাজ। দ্রুত এগিয়ে চলেছে ভরাট কাজ। আলিফ লাম মিম ভাটা থেকে বারো রাস্তার মোড় পর্যন্ত অংশের ভরাট কাজ শেষ হয়েছে এরই মধ্যে। পরের অংশটুকুর ভরাট কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ১০টি ডাম্পিং ট্রাক অনবরত ফেলে চলেছে ভরাট বালি। সেগুলো সরিয়ে দিচ্ছে এসকেভেটর। 

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ভরাট কাজ তদারকি করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর হোসেন এন্টারপ্রাইজের অংশিদার আব্দুল কাইয়ুম সরকার। তিনি বলেন, কার্যাদেশ পাবার পর থেকেই তারা ভরাট কাজ শুরু করেছেন। 

নগরীর উপকণ্ঠ হরিপুর এলাকার পদ্মা থেকে ভরাট বালি এনে ভরাট হচ্ছে। সড়কের মাঝে বড় বড় গর্ত ও ডোবা থাকায় ভরাট কাজে সময় লাগছে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ কাজ শেষ করতে চান তারা। ভরাট কাজ শেষ হলেই শুরু হবে মূল সড়ক নির্মাণ কাজ। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীম জানান, প্রশস্ত সড়ক অবকাঠামো সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এটির কাজ চলছে। পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে ফ্লাইওভার। এটি বাস্তবায়ন হলে নগরীর সড়ক নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে।

Next
নবীনতর পোস্ট
Previous
This is the last post.

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Top